সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান
বাংলাদেশে তিতির পাখি পালনের সুযোগ, সম্ভাবনা ও গুরুত্ব
ভূমিকা
পোল্ট্রির মোট ১১টি প্রজাতির মধ্যে একটি হলো তিতির, যার ইংরেজী নাম Guinea fowl। শোভাবর্ধনকারী পাখি (Ornamental bird) হলেও সুস্বাদু মাংস এবং ডিমের জন্য শত শত বৎসর যাবত তিতির পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পালিত হয়ে আসছে। আফ্রিকা মহাদেশে উৎপত্তি এ পাখিটি আগে বাংলাদেশের প্রধানত রাজশাহী, রংপুর, চুয়াডাঙ্গা, নওগাঁ, নরসিংদী, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল অঞ্চলে বিশেষ ভাবে চোখে পড়ত। স্থানীয় জনগণ এই পাখিকে চীনা মুরগী নামে ডাকত এবং গ্রামীণ পরিবেশে হাঁস-মুরগীর সাথে পালন করত। বর্তমানে সৌখিন ব্যক্তিরা এদেরকে পালন করে থাকেলেও বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে তিতির পালন ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে।
বাহ্যিক বৈচিত্র্যতার ভিত্তিতে তিতির পাখির শ্রেনীবিন্যাস
পালকের রং-এর ভিত্তিতে এ পাখিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
ক) পার্ল ভ্যারাইট-এই ধরণের তিতির পাখি সাধারণত ধুসর পালকের অধিকারী। পালকে নিয়মিত ভাবে ফোটা ফোটা সাদা দাগ থাকে। দেখতে খুব আকর্ষনীয় হওয়ায় পালকগুলো সৌন্দর্য বর্ধনের উপকরণ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
খ) লেভেনডার ভ্যারাইটি -পালকের বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে পার্ল ভ্যারাইটির সাথে মিল রয়েছে। ভিন্নতা শুধুমাত্র পালকের রং হালকাধুসর বর্ণের এবং তাতে নিয়মিতভাবে সাদা ফোটা ফোটা দাগ রয়েছে।
গ) সাদা ভ্যারাইটি -নামকরণ থেকে বুঝা যায় এটির পালক সাদা এবং এর পালকে কোন দাগ থাকে না। এই ভ্যারাইটির পাখির চামড়া পার্ল ভ্যারাইটির তুলনায় হালকা রং এর হয়।
তিতিরের উৎপাদন বৈশিষ্ট্যাবলী
প্রতি বছর ডিম উৎপাদন
ডিমের ওজন
ডিমের ফার্টিলিটি
হ্যাচাবিলিটি
ডিমের ওজন (দৈহিক ওজনের)
দৈহিক ওজন
প্রাপ্ত বয়স্ক হয়
ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার সময়
এক দিন বয়সের বাচ্চার ওজন
১০০-১২০ টি
৩৫-৪৫
গ্রাম
৭৫-৮০%
৭৫-৮০%
২.৮%
১.৬-১.৭ কেজি
৬-৭ মাস
২৭-২৮ দিন
২১-২৭ গ্রাম
তিতির ব্যবস্থাপনা
(ক) ব্রুডিং-মুরগির বাচ্চার তুলনায় তিতিরের বাচ্চা ঠান্ডায় অধিক সংবেদনশীল। সেজন্য প্রথম সপ্তাহে উচ্চ ব্রুডিং তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। প্রথম থেকে তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ব্রুডিং তাপমাত্রা ৩৭º সে. এবং চতুর্থ থেকে পঞ্চম সপ্তাহ পর্যন্ত ৩৬º সে.-এ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
(খ) বাসস্থান ব্যবস্থা-এদেরকে মুক্ত অবস্থায় (Free range), আধা-মুক্ত (Semi-intensive) এবং বন্ধ (Battery cages & deep litter) অবস্থায় পালন করা যায়। বয়স ভেদে প্রতিটি তিতিরের জন্য জায়গার পরিমাণ নিম্নরূপঃ
বয়স
০-৪ সপ্তাহ
৫-৮ সপ্তাহ
৯-১৩ সপ্তাহ
পূর্ণ বয়স্ক
জায়গা
০.৫ বর্গফুট
০.৭৫ বর্গফুট
১.০ বর্গফুট
২-২.৫ বর্গফুট
(গ) খাদ্য এবং পানি-বাড়ন্ত তিতিরের সাপ্তাহিক খাদ্য এবং পানি গ্রহণের পরিমাণ নিচে তালিকা আকারে দেয়া হলো।
খাদ্য ও পানি গ্রহণ
বয়স সপ্তাহ









১০
১১
১২
১৩
১৪
খাদ্য (গ্রাম)
৫৫
১৩০
২১০
২৭৫
৩৪০
৩৯৫
৪৬০
৪৯৫
৫৪০
৫৮৫
৬১০
৬৩০
৬৩৫
৬৪০
পানি (মি:লি)
৭৫
১৮০
২৯০
৩৮০
৪৬০
৫৩০
৬২০
৬৭০
৭৩০
৭৮০
৮১০
৮৩৫
৮৪৫
৮৫০
(ঘ) খাদ্য প্রস্তুতকরণ
খাদ্য উৎপাদন (%)
বয়স (সপ্তাহ)
স্টার্টার (০-৪)
গ্রোয়ার (৫-২০)
২১-পরবর্তী সময়
গমচূর্ণ
৩০.০০
৩০.০০
৩০.০০
ভূট্টা চূর্ণ
১৮.০০
২৪.০০
১৮.০০
চাউলের কুঁড়া
১৪.০০
১৯.০০
১৫.০০
তিলের খৈল
০৯.০০
০৭.০০
০৮.০০
ফিস মিল
১৮.০০
১০.০০
১৫.০০
নারিকেলের খৈল
১১.০০
০৮.০০
১১.০০
ঝিনুক চূর্ণ
০১.০০
০১.০০
০৪.০০
সাধারণ লবণ
০০.৬০
০০.৬০
০০.৬০
ভিটামিন-মিনের‌্যালস
০০.৪০
০০.৪০
০০.৪০
উৎকর্ষতার বৈশিষ্ট্য
দৈহিক ওজন, খাদ্য গ্রহণ এবং খাদ্য রূপান্তর দক্ষতার (F.C.R) ভিত্তিতে তিতিরের উৎকর্ষতার বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপঃ
প্যারামিটার
বয়স (সপ্তাহ)
০-৪
৫-৮
৯-১১
১২
১৩
০-১১
০-১২
০-১৩
দৈহিক ওজন (গ্রাম)
৩৮০
৫৯০
৪০০
১১০
১০০
১৩৭০
১৪৮০
১৫৮০
খাদ্য গ্রহণ (গ্রাম)
৬৭০
১৬৯০
১৭৩৫
৬৩০
৬৩৫
৪০৯৫
৪৭২৫
৫৩৬০
খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা
১.৭৬
২.৮৬
৪.৩৪
৫.৭৩
৬.৩৫
২.৯৯
৩.১৯
৩.৩৯
বিঃ দ্রঃ খাদ্যে শক্তি মাত্রা ৩০০০ কিলো ক্যালরি বিপাকীয় শক্তি কেজি এবং সহনীয় তাপমাত্রা ২০ºসে.।
বাংলাদেশে বিদ্যমান তিতির পাখির সাধারণ বৈশিষ্ট্য
বাংলাদেশে যে তিতির পাখি পাওয়া যায় সেটি পার্ল ধরণের। এর সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলোঃ- রং ধুসর বর্ণের এবং পালকের উপর নিয়মিত ভাবে ফোটা ফোটা সাদা দাগ থাকে, ডিমের রং হালকা বাদামি থেকে ঘন বাদামি রং এর হয় ও ডিম এর গায়ে ছোট ছোট দাগ দেখা যায়, ডিম সাধারণত লাঠিম বা কনিকেল আকৃতির হয়, ডিমের ওজন ৩৮-৪৪ গ্রাম এর মধ্যে হয়ে থাকে,পুরুষ পাখির মাথার হেলমেট বা মুকুট একটু বেশী উঁচু স্ত্রী পাখির তুলনায়, পায়ের রং একটু কালচে ধরণের, একটি পূর্নাঙ্গ স্ত্রী পাখির ওজন ১৩০০-১৫০০ গ্রাম ও পুরুষ পাখির ওজন ১৬০০-১৭০০ গ্রাম হয়ে থাকে, এ পাখির ডিম প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উভয় পদ্ধতিতে ফোটানো যায়, ডিম ফুটতে ২৭-২৮ দিন সময় লাগে।
অন্যান্য পোল্ট্রি প্রজাতির তুলনায় তিতির পাখি পালনের সুবিধা সমুহ
তিতির পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য পাখির তুলনায় বেশি।সংক্রামক বা পরজীব

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

লেয়ার মুরগির ঠোট কাটিং....
অামাদের নিজস্ব লেয়ার মুরগি। যা দিয়ে ভবিষ্যৎ এ বাচ্চ করা হবে এবং বিক্রয়  করা হবে।  
ফার্ম পড়াশোনা শেষ করে বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীরা গতানুগতিক চাকরি বা ব্যবসার আশায় বসে থাকে। এ সকল চাকরি বা ব্যবসার আশায় না থেকে আমরা যদি নিজেরাই আত্দকর্মসংস্থানের জন্য কিছু গঠনমূলক কাজ করি তাহলে আমাদের ভাগ্যের সঙ্গে সঙ্গে সমাজকেও আমরা কিছু উপহার দিতে পারব। এজন্য দরকার আত্দবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠা। সমাজে এমন অনেক ব্যতিক্রমী পেশা রয়েছে যেখানে একটু পরিশ্রম ও চিন্তাভাবনা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করলে সফলতা দরজায় এসে কড়া নাড়বে। আমাদের ক্যারিয়ার পাতায় প্রতিদিনই আমরা চেষ্টা করি কিছু গঠনমূলক প্রজেক্টের ধারণা দিতে। আজকে এরকম একটি প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করা হলো। এটি হলো ডেইরি ফার্ম। বাংলাদেশে এখন সফল ডেইরি ফার্মের সংখ্যা অনেক। দিন দিন এর চাহিদা ও বাজার বাড়ছে। একদিকে যেমন এ থেকে আদর্শ খাবার হিসেবে দুধ, আমিষের চাহিদা মেটাতে মাংস এবং জ্বালানি হিসেবে গোবর ও জৈব সার পাওয়া যাবে, তেমনি অন্যদিকে এ খাত থেকে বেশ ভালো আয় করাও সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে অল্পবিস্তর জ্ঞান থাকতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ নিলে। প্রাথমিক প্রয়োজন :...